প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 27, 2026 ইং
কৃষকের স্বপ্ন ও সংগ্রামে পাশে তরুন সাংবাদিক বিধান চন্দ্র

আশীষ বিশ্বাস
নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের তরুণ বিধান চন্দ্র রায় কৃষি ও সাংবাদিকতা এই দুই ক্ষেত্রকে একসূত্রে গেঁথে কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
বুড়ি তিস্তা নদীর কোল ঘেঁষা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শৈশব থেকেই কৃষি ও কৃষকের জীবনসংগ্রামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো, কৃষকের কাজ পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোই তাকে ধীরে ধীরে কৃষির প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী করে তোলে। তিনি জানান, ছোটবেলায় দেখতেন কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করেও নানা সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতেন না। কখনও আবহাওয়া, কখনও রোগবালাই, আবার কখনও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তাদের পরিশ্রম যথাযথ ফল দিত না। এই বাস্তবতাই তাকে কৃষি শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করে।
শিক্ষাজীবনে তিনি বালাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং জলঢাকা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকে রংপুরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই), তাজহাটে কৃষি বিষয়ে অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচার এডুকেশন (BAgEd) ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি “প্ল্যান্ট ডক্টর” কোর্স সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে ফসলের রোগবালাই নির্ণয় ও সমাধান বিষয়ে আরও বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে।
কৃষি শিক্ষার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় কৃষকদের সংগঠিত করে কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। “টেকসই উন্নয়ন কৃষক গ্রুপ”-এর মাধ্যমে তিনি কৃষকদের একত্রিত করে বিভিন্ন কৃষিসেবা, পরামর্শ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় কৃষক মমনুর রহমান জানান, বিধান চন্দ্র রায় কৃষির বিভিন্ন তথ্য ও সমস্যা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেন। তার কারণে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি নিয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অনেক কৃষক প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতেন, এখন সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়েছে। কৃষি চাষের প্রতি সাধারণ কৃষকদের আগ্রহও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষির পাশাপাশি সাংবাদিকতার প্রতিও রয়েছে তার আগ্রহ। তিনি ছোটবেলা থেকেই কৃষকের সাফল্য, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরতে নিয়মিত কৃষিভিত্তিক প্রতিবেদন ও কনটেন্ট তৈরি করেন। তার লক্ষ্য কৃষকের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাজ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে তুলে ধরা এবং কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ভবিষ্যতে তিনি কৃষি বিভাগের একজন দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। পাশাপাশি কৃষি সাংবাদিকতার মাধ্যমে কৃষকের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
কৃষির প্রতি ভালোবাসা, মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা এবং শেখার অদম্য আগ্রহ—এই তিন শক্তিই তাকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪